Wednesday, March 9, 2016

Doctors threaten to move court against 3-years bond in West Bengal

Doctors who have gained admission in postgraduate and post-doctoral courses in West Bengal through all-India quota have threatened to move court against the 3-years bond in West Bengal. Currently candidates have to sign a bond of working for at least three years in superspeciality hospitals in West Bengal after passing their exams, failing which they have to pay rupees thirty lakhs as penalty. Doctors have termed this bond as discriminatory and have questioned its validity.


আদালত দেখাচ্ছেন ডাক্তারেরা, প্রমাদ গুনছে প্রশাসন


সেবার শপথ নেওয়ার পাশাপাশি কিছু শর্ত মেনে বন্ড বা মুচলেকাও দিতে হয় ডাক্তারি পড়ুয়াদের। স্নাতকোত্তর মেডিক্যালের পড়ুয়াদের সেই বন্ডের বাঁধন আরও আঁটোসাঁটো করায় শুরু হয়েছে শোরগোল। আর সেই শোরগোলেরও পিছনে আছে সুপার স্পেশ্যালিটি হাসপাতাল। আরও নির্দিষ্ট করে বললে এর কারণ আসলে পরিকাঠামো না-গড়েই জেলায় জেলায় সুপার স্পেশ্যালিটি হাসপাতাল চালু করতে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শশব্যস্ততা।

পরিকাঠামোর অভাব বলতে ডাক্তারের ঘাটতিটাই বড় হয়ে উঠছে। মুখ্যমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতি রাখতে প্রায় জোরজবরদস্তি করে জেলায় জেলায় সুপার স্পেশ্যালিটি হাসপাতাল খোলা হয়েছে ঠিকই। কিন্তু প্রয়োজনীয় চিকিৎসকের জোগান দিতে পারছে না স্বাস্থ্য দফতর। বিভিন্ন মেডিক্যাল কলেজ থেকে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ধার করেও সমস্যার সমাধান তো হচ্ছেই না। উল্টে সমস্যায় পড়ছেন ওই সব মেডিক্যালের রোগীরা। পশ্চিমবঙ্গের মেডিক্যাল কলেজগুলিতে যাঁরা ডিএম, এমসিএইচ, এমডি, এমএস পড়ছেন, তাঁদের এ রাজ্যে সরকারি পরিষেবায় রেখে দেওয়ার জন্য চালু হয়েছে ‘সুপার স্পেশ্যালিটি বন্ড’। সেই বন্ডে জরিমানার অঙ্ক বাড়িয়ে হালে পানি পেতে চাইছে সরকার।

সুপার স্পেশ্যালিটি বন্ডটা কী?
প্রতি বছর যাঁরা স্নাতকোত্তর স্তরের পড়াশোনা শেষ করে বেরোচ্ছেন, তাঁদের একটা উল্লেখযোগ্য অংশই ভিন্‌ রাজ্যের বাসিন্দা। তাঁরা পাশ করে নিজেদের রাজ্যে ফিরে যাচ্ছেন। অথবা সরকারি পরিষেবার বাইরে অন্য কোনও হাসপাতালের সঙ্গে যুক্ত হচ্ছেন। এ রাজ্যে সরকারি পরিষেবায় যোগ দেওয়ার জন্য কার্যত কোনও স্নাতকোত্তর ডিগ্রিধারী বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকই মিলছে না। এই পরিস্থিতিতেই চালু করা হয় সুপার স্পেশ্যালিটি বন্ড। ওই বন্ড অনুযায়ী পাশ করার পরে অন্তত তিন বছর সরকারি পরিষেবার আওতায় জেলার সুপার স্পেশ্যালিটি হাসপাতালে কাজ করতে হবে। গোড়ায় চুক্তি ভঙ্গ করলে জরিমানার অঙ্ক ছিল ১০ লক্ষ টাকা। ডাক্তারদের আটকে রাখতে ডিএম এবং এমসিএইচ-এর ক্ষেত্রে সেই জরিমানার পরিমাণ বাড়িয়ে ৩০ লক্ষ টাকা করা হয়েছে। ওই দু’টি পাঠ্যক্রমে ভর্তির সময়ে সুপার স্পেশ্যালিটি বন্ডে সইসাবুদও শুরু হয়ে গিয়েছে।

বন্ডের বিষয়টি চালু হয়েছিল ২০১৩ সালে। তখন সুপার স্পেশ্যালিটির কাজ সবে শুরু হয়েছে। বলা হয়েছিল, ডাক্তারদের এক বছরের জন্য বন্ড দিতে হবে। অর্থাৎ শর্ত না-মানলে এক লক্ষ টাকা জরিমানা। কিন্তু ২০১৪ সালে জরিমানার পরিমাণ বাড়িয়ে করা হয় ৩০ লক্ষ। তখন প্রাথমিক ভাবে কিছু আপত্তি উঠেছিল। তবে স্বাস্থ্যকর্তারা প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বন্ডের পুরো ব্যাপারটিই তুলে নেওয়া হবে। কিন্তু আজ পর্যন্ত সেটা হয়নি। বরং বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের আকাল আরও প্রকট হয়েছে।

এই পরিস্থিতিতে স্বাস্থ্যকর্তারা বন্ডটির শর্ত আরও কঠোর করার কথা ভাবছেন। আপত্তি উঠছে সেখানেই। চলতি বছরেই ২০১৩-র ডিএম এবং এমসিএইচ ব্যাচ পাশ করে বেরোচ্ছে। সেই চিকিৎসকেরা শর্ত অনুযায়ী এক বছর জেলায় কাজ না-করলে ১০ লক্ষ টাকা জরিমানা দিতে বাধ্য থাকবেন। আর পরের বছর অর্থাৎ ২০১৭-তে যাঁরা পাশ করবেন, তাঁরা তিন বছর জেলায় না-থাকলে ৩০ লক্ষ টাকা দিতে বাধ্য।

এমডি এবং এমএস-দের ক্ষেত্রেও একই ব্যবস্থা। কিন্তু স্বাস্থ্যকর্তাদের বক্তব্য, এমডি, এমএসে রাজ্যের ডাক্তারেরাই বেশি সুযোগ পান। তাঁদের অধিকাংশই সরকারি হাসপাতালের সঙ্গে যুক্ত। তাই ওই সব ডাক্তারের ক্ষেত্রে রাজ্য ছেড়ে যাওয়ার প্রশ্ন খুব বেশি ওঠে না। ডিএম এবং এমসিএইচ-এর ক্ষেত্রে সেই প্রবণতা অনেক বেশি। তাই মূলত তাঁদের আটকাতেই এই বন্ডের ব্যাপারটা কঠোরতর করা হচ্ছে।

ভিন্‌ রাজ্যের সব চিকিৎসকই যে নির্বিবাদে ওই বন্ডে সই করে দিচ্ছেন, তা নয়। স্বাস্থ্য দফতর সূত্রের খবর, ওই বন্ডকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে কিছু চিকিৎসক আদালতে যাওয়ার হুমকি দিয়েছেন। চিকিৎসকেরা আদালতের দ্বারস্থ হলে তার ফল যে স্বাস্থ্য দফতর তথা সরকারের বিরুদ্ধে যাওয়ারই আশঙ্কা প্রবল, স্বাস্থ্যকর্তাদের অনেকে সেটা স্বীকার করে নিচ্ছেন।

সেই আশঙ্কা আছে জেনেও ঝুঁকি নিয়ে জরিমানার পরিমাণ বাড়ানোর কী দরকার ছিল?
স্বাস্থ্য ভবনের খবর, ক্ষমতায় এসে তৃণমূল সরকারের ঘোষণা ছিল, রাজ্যের জেলায় জেলায় মোট ৪১টি সুপার স্পেশ্যালিটি হাসপাতাল খোলা হবে। পাঁচ বছরের মাথায় হাসপাতাল হয়েছে কাগজে-কলমে ২১টি। কিন্তু এর মধ্যে মাত্র ১৪টিতে আউটডোর বা বহির্বিভাগ পরিষেবা চালু হয়েছে। ফেব্রুয়ারির শেষ সপ্তাহে একই দিনে তড়িঘড়ি আরও সাতটি সুপার হাসপাতালের উদ্বোধন হয়েছে ঠিকই। তবে তা কার্যত না-হওয়ারই মতো। কেননা সেগুলোর কোথাও শুধু চোখের ডাক্তার আসেন। কোথাও বা বসেন শুধু দাঁতের ডাক্তার। আবার কোথাও সপ্তাহে মাত্র দু’দিন মেডিসিনের কোনও এক জন ডাক্তার ঘর আগলে বসে থাকেন। স্বাস্থ্য ভবনের কর্তাদের উপলব্ধি, বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের সংখ্যা না-বাড়লে এই পরিস্থিতি সামলানো সম্ভব নয়।

স্বাস্থ্য দফতরের এক শীর্ষ কর্তা বলেন, ‘‘নিউরো সার্জারি, কার্ডিওথোরাসিকের মতো বিষয়ের প্রবেশিকায় বাংলার তুলনায় অন্য রাজ্যের ছেলেমেয়েরাই বেশি উত্তীর্ণ হচ্ছেন। এখানে পড়াশোনা করে তাঁরা নিজেদের জায়গায় ফিরে যাচ্ছেন। ফলে এ রাজ্যের আকালটা আর মিটছে না। তাই ওই বন্ডের শর্তে জরিমানার পরিমাণ বাড়ানো ছাড়া আমাদের সামনে অন্য পথ ছিল না। তবে শুধু ভিন্‌ রাজ্য নয়, এ রাজ্যের পড়ুয়াদেরও ওই বন্ডে সই করতে হচ্ছে। পাশ করার পরে তিন বছর জেলায় কাজ করতেই হবে।’’

৩০ লক্ষ টাকার ওই জরিমানার ব্যবস্থা নজিরবিহীন বলে অভিযোগ করে ইতিমধ্যেই বেশ কিছু চিকিৎসক প্রতিবাদ জানিয়েছেন। তাঁদের বক্তব্য, গুজরাত, রাজস্থান, ওড়িশা, মহারাষ্ট্র এবং আরও কয়েকটি রাজ্যে এই ধরনের বন্ড বা মুচলেকার বন্দোবস্ত আছে। কিন্তু কোথাওই টাকার অঙ্ক এত বেশি নয়। এবং অন্য কোথাও দফায় দফায় জরিমানার অঙ্ক বাড়ানো হয়নি বলে তাঁদের অভিযোগ।

স্বাস্থ্য ভবন সূত্রে জানা গিয়েছে, এই চাপের মুখে পড়ে এখন জরিমানার টাকার অঙ্ক পুনর্বিবেচনা করার কথা ভাবা হচ্ছে। সেই সঙ্গে ভোট মিটে যাওয়ার পরে নতুন করে যাতে আর সুপার স্পেশ্যালিটি হাসপাতাল খোলা না-হয়, সেটাও নিশ্চিত করার চেষ্টা চলছে।


তা হলে কি সুপার স্পেশ্যালিটির ভাবনা থেকে খানিকটা হলেও সরে আসছে মমতার স্বাস্থ্য দফতর?
‘‘এখনই কিছু বলা যাচ্ছে না। ভোট পর্ব মিটলে হয়তো ও-সব নিয়ে ভাবা হবে। আপাতত যে-ভাবেই হোক, গাড়িটাকে গড়িয়ে নিয়ে যেতে হবে,’’ জবাব স্বাস্থ্যকর্তাদের।